আত্মবিশ্বাস থাকা ভাল কিন্তু তা যেন সীমা অতিক্রম না করে ।৪০ তম বিসিএস।

গত ৩০ মার্চ ৪০ তম বিসিএসের ফল প্রকাশিত হয়।৪০তম বিসিএসে ১ হাজার ৯৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে পিএসসি।যারা ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিভিন্ন বিভাগের ক্যাডার হয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে তা নিয়ে একটি সিরিজ প্রতিবেদন তৈরি করছে মর্নিং ট্রিবিউন । আজ হচ্ছে তার অষ্টম পর্ব ।

আজকে আমাদের সাথে আছেন মহিব – উল – ইসলাম (যতন)। যিনি ৪০তম বিসিএসে কাস্টমস এন্ড এক্সাইজ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। এই প্রতিনিধির সাথে আমাদের প্রতিনিধির কথা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তিনি তখন নিজের অতীত কর্মজীবন আর অধ্যবসায়ের গল্প তারপর বিসিএস ক্যাডার হওয়ার যে জার্নি আর তার আগামীর কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মহিব – উল – ইসলাম (যতন)। সম্প্রতি ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কাস্টমস এন্ড এক্সাইজ ক্যাডার হয়েছেন তিনি।

মহিব যতন জীবনের মূলমন্ত্র কি ছিল জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,’’আমার বাবা একজন আইনজীবী এবং মা একজন শিক্ষিকা তারা আমাদের সবসময় একটা জিনিস শিখিয়েছেন যে মানুষের কোন ক্ষতি যাতে আমার দ্বারা না হয় এখন অবধি আমরা তাদের এ শিক্ষাটা মনে প্রানে মেনে চলার চেষ্টা করি। আর তাদের একটা চাওয়াই ছিল আমাদের উচ্চ শিক্ষিত হতে হবে যেকোন মুল্যে এবং আল্লাহ তাদের চাওয়া পূর্ণ করেছেন ।‘’

মহিব – উল – ইসলাম (যতন) বেড়ে উঠেছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পূর্ব মজমপুরে । জীবনে সৎ থাকার অভ্যাসটা পেয়েছেন আইনজীবি বাবার কাছ থেকে, আর জীবনের মূল্যবোধ শিখিয়েছেন মা। যিনি কুষ্টিয়ার স্বনামধন্য কলকাকলি স্কুলের শিক্ষিকা। মহিব – উল – ইসলাম (যতন) এর পরিবারে আছে বাবা,মা এক বড় ভাই,বড় বোন ও স্ত্রী। তার কথার মধ্যে বারবার উঠে আসছিল তার সহধর্মিণীর কথা যিনি কিনা একসময় তার বিভাগের সহপাঠী ছিলেন। তিনি যখনই কোন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছেন তখনই পাশে পেয়েছেন তার সহধর্মিণীকে।

এসএসসি সম্পন্ন করেছিলেন কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে আর এইচএসসি সম্পন্ন করেছেন কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ থেকে। তারপর ২০১২-১৩ সেশনে ভর্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। তার একাডেমিক ফলাফলে তিনি তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। মহিব – উল – ইসলাম (যতন) এর বড় ভাই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র এবং প্রচণ্ড মেধাবী। বড় ভাইয়ের প্রভাব ছিল তার জীবনে অনেক। কিন্ত দুর্ভাগ্যবশত তিনি সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত হন। এটাই তার জীবনে বিশাল বড় প্রভাব ফেলে। তখন চার পাশের মানুষের সব কিছু প্রত্যক্ষ করার পর সিদ্ধান্ত নেন যে বড় ভাইয়ার দায়িত্বটা নাই তিনি তা সম্পন্ন করবেন। এটাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট।

তিনি হলের রিডিং রুমেই পড়তেন সবসময়। তার একটা পড়ুয়া বন্ধুদের গ্রুপ ছিল যারা সবসময় একসাথে আড্ডা দিত এবং লেখাপড়া করত। এই বন্ধুদের প্রভাব ছিল অনেক তার জীবনে। এই গ্রুপটার সবাই এখন খুব ভাল অবস্থানে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়াকালীন (২০১৬) থেকে বিসিএস এর প্রস্তুতি নেওয়া পড়া শুরু করেন তিনি। তিনি বলেন,“ কেউ যদি বিসিএস দিতে চায় তার আগে বুঝতে হবে তিনি শেষ পর্যন্ত বিসিএসের জন্য মনোযোগ ধরে রাখতে পারবেন কিনা। আমি সর্বপ্রথম প্রিলিমিনারির সিলেবাসটা ভাল করে পড়েছিলাম যাতে ধারণা নিতে পারি আমার কোন কোন বিষয়ে অধিক জোর দিতে হবে। দুর্বলতা কাটানোর জন্য বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করেছি।পরীক্ষা দিতে হবে বেশি বেশি। বুঝতে চেষ্টা করেছি প্রশ্নগুলো মূলত কি ধরনের হতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় কোন বিষয়ে দুর্বলতা থাকলে যে বিষয়টাতে ভাল দক্ষতা আছে সেটাতে সবচেয়ে ভাল প্রস্ততি নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় অবহেলা করা যাবে না। ভাইভাতে আপনার সব কিছু খেয়াল করা হবে, আপনার আচরণ, ড্রেস সেন্স,কথা বলার ধরন। আপনাকে আপনার নিজের যত্ন নিতে হবে। যারা ভাইভা বোর্ডে থাকবেন তারা সবাই অনেক অভিজ্ঞ। আপনি তাদের সামনে কোন অভিনয় করলে তারা তা বুঝতে পারবেন আর সবসময় আমি যা তাই প্রেজেন্ট করতে হবে।

বিসিএস যাদের একমাত্র গোল তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘’ আগে বিসিএস কে একমাত্র গোল হিসেবে নেওয়ার বিষয়টি বাদ দিন। বিসিএসকেই শুধু সম্মানের চাকুরি ভাবার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। তবে বিসিএস এর প্রস্তুতি ভালো করে নিলে সেটা অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় কাজে আসে।‘’

এবার যখন জানতে চাওয়া হয় কর্মক্ষেত্র নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি? তখন বলেন,’’আমি নিজেকে একজন দক্ষ কর্মকর্তা হিসাবে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য সরকার যেসব পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে তা বাস্তবায়নে আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিতে চাই।‘

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *