
বাবার অনুপ্রেরণা আর আমার অদম্য চেষ্টাই আমার সফলতার চাবিকাঠি
যারা ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিভিন্ন বিভাগের ক্যাডার হয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে তা নিয়ে একটি সিরিজ প্রতিবেদন তৈরি করছে মর্নিং ট্রিবিউন। আজ হচ্ছে তার প্রথম পর্ব ।
আজকে আমাদের সাথে আছেন সামছুজ্জামান সবুজ যিনি ৪০ তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। এই প্রতিনিধির সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে বসে নিজের অতীত আর অধ্যবসায়ের গল্প তারপর বিসিএস ক্যাডার হওয়ার যে জার্নি আর তার আগামীর কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে বলছিলেন সামসুজ্জামান সবুজ । সম্প্রতি ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন বিভাগের ক্যাডার হয়েছেন তিনি।

জীবনের মূলমন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তর দেন একটু হাসতে হাসতে বলেন, এসএসসি তে যখন জিপিএ একটু কম আসে। কাছের মানুষগুলো একটু হাসি তামাশা করে ওই জিদটা থেকে আমি আরও বেশি পড়া শুরু করলাম, আমি আমার নিজেকে সাজাতে শুরু করলাম। আমার বাবার পিছন সাহস জুগানো টা ছিল আমার জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার বাবা আমার উপর আশা হারাননি। তার একটা দৃঢ় বিশ্বাস ছিল আমার ছেলে পারবে। আমিও চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখিনি। আল্লাহ সহায় হয়েছেন। সব প্রতিকূলতা কে খুব ধীর সুস্থে মোকাবিলা করতে হবে। দায়েমছাতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও কুমিল্লা ইবনে তাইমিয়া থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। তারপর ভর্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। তার একাডেমিক ফলাফলে তিনি তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।
বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, বিসিএসের প্রচলিত প্রস্তুতি বলতে যেটা বোঝায়, সেটা আমি নেই নি । বিসিএস এ শর্টকাট বলতে কিছু নাই।ধৈর্য হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিষয়। আমি সর্বপ্রথম বিগতবছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করেছি। বুঝতে চেষ্টা করেছি প্রশ্নগুলো মূলত কি ধরনের হতে পারে।রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়াতে আমার আন্তর্জাতিক এর উপর ভাল দক্ষতা ছিল। বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগে বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন ও সিলেবাস পর্যালোচনা করে আমি বেশি বেশি মডেল টেস্ট দিয়েছি। দৈনন্দিন বিজ্ঞান, সাধারণ গণিতে আমি আমার সবচেয়ে বেশি সময় দিয়েছি। লিখিত পরীক্ষার ৫দিন আগে আমার মাস্টার্স পরিক্ষা শেষ হয়। ঐ সময়টাতে আমি সবচেয়ে বেশি পরিকল্পনা করে পড়েছি । এই সময়টাতে সব বিষয়ে গুছিয়ে পড়াশোনা করেছি।
ভাইভাতে আপনার সব কিছু খেয়াল করা হবে, আপনার আচরণ, ড্রেস সেন্স,কথা বলার ধরন। আপনাকে আপনার নিজের যত্ন নিতে হবে। যারা ভাইভা বোর্ডে থাকবেন তারা সবাই অনেক অভিজ্ঞ। আপনি তাদের সামনে কোন অভিনয় করলে তারা তা বুঝতে পারবেন আর সবসময় ভালোর চর্চা করতে হবে।
যখন পরামর্শ চাওয়া হয় তখন তিনী বলেন, আমি যে ১২ ঘন্টা পড়ছি আসলে কি পড়া টা কি ফলপ্রসু হচ্ছে? আমি কষ্ট করছি এটা আমার জন্য হবে। আমরা যারা চাকরির জন্য হন্য হয়ে যাই,আমাদের নিয়ম মাফিক পড়তে হবে তাহলে সফলতা আসবে।
যখন প্রশ্ন করা হল আপনার এখন পর্যন্ত আক্ষেপ কি ? তখন বলেন, আমার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আমিই একমাত্র ছাত্র যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ ২০১১ সালে। তার আগে কিংবা পরে আর কেউ এখন পর্যন্ত সুযোগ পায় নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে আমি যখন বাড়িতে যেতাম আমি তাদের ক্লাস করাতাম। আমার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এ স্কুলকে একটি ভাল পর্যায়ে দেখার।
এবার আমার জানতে কর্মক্ষেত্র নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি? তখন বলেন, আমি নিজেকে একজন দক্ষ প্রশাসক হিসাবে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য সরকার যেসব পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে তা বাস্তবায়নে আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিতে চাই।
