
খুবি প্রতিনিধিঃ
প্রশাসনের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে রাত আড়াইটার দিকে বিক্ষোভ বন্ধ করে হলে ফিরেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হল থেকে রান্নার সরঞ্জাম সরানোর নির্দেশনা বাতিলসহ কয়েকটি দাবিতে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে অপরাজিতা হলের একদল ছাত্রী বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
শিক্ষার্থীদের ১১ দফা দাবিগুলো হলো-
১. যৌন হয়রানির প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলার কারণে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পারিবারিক শিক্ষা তুলে কথা বলার ঘটনায় ক্ষমা চাইতে হবে। ২. রাইস কুকার ও রান্নার সরঞ্জাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। ৩. পানির পোকা ও খাবারের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। ৪. হলে প্রয়োজনে অভিভাবক ও নারী আত্মীয়দের থাকার অনুমতি দিতে হবে। ৫. হলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ৬. প্রাধ্যক্ষ তার নিজ ডিসিপ্লিনের (বিভাগ) শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও অ্যাকাডেমিক বিষয়ে হয়রানি করেন। এটা বন্ধ করতে হবে ও ক্ষমা চাইতে হবে। ৭. ছাত্রীদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। ৮. যে কোনো পরিস্থিতিতে সিট বাতিলের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ৯. হলের মিল খাওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে না। ১০. আজকের আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ছাত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে হুমকি দেওয়া যাবে না। ১১. দাবিগুলো দ্রুত না মানলে প্রাধ্যক্ষ কমিটির পদত্যাগ করতে হবে।
এ বিষয়ে খুবির অপরাজিতা হলের প্রভোস্ট রহিমা নুসরাত রিম্মি বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তান। তাদের সব দাবি আমরা মেনে নিয়েছি। কারণ আমরা চাই না আমাদের সন্তানরা একটুও কষ্ট পাক আমাদের দ্বারা। তাদের হল তারা যেভাবে চাইবে, আমরা সেভাবে চালাব। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক কখনো প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে না এবং আমরা বিশ্বাসও করি না। তাদের সমস্যা আমরা সবসময় সমাধানের চেষ্টা করেছি।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজিতা হলের এক ছাত্রী তরকারি কাটার বটি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি বেঁচে যান। ওই ঘটনার পর হলে ছাত্রীদের রান্নার সরঞ্জাম জব্দ করার নিদের্শ দেয় হল কর্তৃপক্ষ। ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ রাইস কুকার, হিটারও সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়, যার কক্ষে এসব সরঞ্জাম পাওয়া যাবে তার সিট বাতিল করা হবে।
এ নিয়ে ছাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর জের ধরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অপরাজিতা হলের একদল ছাত্রী ফটকের তালা ভেঙে বাইরে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেসা মুজিব হলের ছাত্রীরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ছাত্র হলের শিক্ষার্থীরাও ওই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ছাত্রীদের সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেন।
