সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে ভাবছে

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ব্যয় কমাতে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শুক্রবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ১৭তম জাতীয় সম্মেলন ও আসন্ন্য জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক সেমিনারে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শোক হোক শক্তি, কারিগরি শিক্ষাই মুক্তি’ শীর্ষক এ সেমিনারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ডা. দীপু মনি।

শিক্ষামন্ত্রী, সেমিনারে কারিগরি শিক্ষায় সরকারের বিভিন্ন নতুন কারিকুলাম ও প্রকল্পের কথা তুলে ধরে বলেন “কারিগরি দক্ষতা অর্জনকে আমরা বিরাট গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা দক্ষ হয়ে গড়ে উঠেছে কিনা সেটি নিশ্চিত করতে চাই। শিক্ষার্থীদের মানবিক, সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য যেসব দিকে নজর দেওয়া দরকার, শেখ হাসিনা সরকার সেদিকে নজর দিয়েছে।”

তিনি বলেন, এর আগে আমরা শিক্ষক নিয়োগ করতে পারিনি দীর্ঘদিন। তবে, সম্প্রতি আমরা ৫ হাজার কারিগরি শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। আশা করছি শীঘ্রই নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা থাকবে না।
মন্ত্রী বলেন, মাঝখানে প্রায় ১০ বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তি বন্ধ ছিল। অতীতের সরকার ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা অন্য উপায়ে প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত করেছে। কিন্তু, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বচ্ছ উপায়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যেকটা উপজেলায় একটি করে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রকল্প নিয়ে ভাবছে সরকার। এর আগে, ৫০টি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ কোটি দেওয়া হয়েছে ল্যাব ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য। অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান সে অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেনি। কাজেই বরাদ্দ দিলেই শুধু হবে না, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনে সেটি কাজে লাগাতে হবে।

ডা. দীপু মনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী দক্ষ মানব শক্তি উৎপাদনের জন্য শিক্ষার্থীদের তৈরি করে তুলতে হবে। যেই দেশ যত উন্নত হয়েছে সেই দেশে কারিগরি শিক্ষার হার, এনরোলমেন্ট অনেক বেশি। কিন্তু, আমাদের দেশে উলটো- কম মেধা সম্পন্ন, কম অবস্থাপন্ন শিক্ষার্থীদের কারিগরি পড়ানো হয়।

সেমিনারে বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতির (বাপশিস) (কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ) সভাপতি মো. আমান উল্লাহ খান ইউছুফজীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাপশিস’র সাধারণ সম্পাদক জি. এম. আকতার হোসেন, ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট’র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী কাজী জাকির হোসেন। উপস্থিত ছিলেন বাপশিস’র বিভিন্ন সদস্য ও শিক্ষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *