#morningtribune#story#bd

রুদ্রর প্রিয় সকাল!

প্রিয় রুদ্র” কথাটি শুনলেই আমার চোখে ভেসে ওঠে প্রয়াত প্রাক্তন ও চিরজীবনের বন্ধু রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা তসলিমা নাসরিনের সেই চিঠি যা তিনি লিখেছিলেন আকাশের ঠিকানায়। যেখানে তার রুদ্র পাখি হয়ে, মেঘ হয়ে কী অবলীলায় ভেসে থাকে, উড়ে বেড়ায়। আকাশের সাথে কথা কইতেন তিনি রোজ; সুখের কথা, দুঃখের কথা। এমনই একরাতে আকাশভরা জোৎস্নায় গা ভাসিয়ে ভেসে গিয়েছিল কবি ও কবির কামিনী। আর ভেসে যেতে যেতে শুনিয়েছিলেন তার লেখা গান “ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো।”

অনেকদিন লিখতে চেয়েও লেখা হয়নি। অথচ তার রুদ্র তো তাকে বলেছিলো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে। পরে অবশ্য চিঠি লিখেছিলেন তিনি আকাশের ঠিকানায়। তবে সকালের চিঠি, তার চিরজীবনের সকালের চিঠি রুদ্র কি পেয়েছিলো? সকাল জানেন না সেকথা! কেবল আজও তসলিমা শুনতে পান করুণ সুন্দর কন্ঠে তার রুদ্র ডেকে চলেছে, সকাল, আমার সকাল! যে মানুষটার সাথে জীবনের অজস্র হাসি কান্নার মুহূর্ত কাটিয়েছিলেন তিনি, তাকে কি ভুলে যাওয়া এতোই সহজ? ছেড়ে থাকা যায়; ভুলে থাকা যায় কি? সহজেই যাকে ভালোবাসা যায়, সহজেই তাকে ভুলে থাকা যায় কি? এজন্যই তার রুদ্র লিখে গেছিলো, “আমি দূরে যাই- স্বপ্নের চোখে তুমি মেখে নাও ব্যথা-চন্দন চুয়া, সারাটি রাত্রি ভাসো উদাসীন বেদনার বেনোজলে… এতো সহজেই ভালোবেসে ফ্যালো কেন?”

লেখকঃইমন ইসলাম রাজু

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *