
ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া মুসলিম নেতা মুক্তাদা আল-সদর রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর তার অনুসারীরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ঢুকে পড়েন। শুধু তাই নয় প্রেসিডেন্টের সুইমিং পুলে জলকেলিতে মেতেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। দুমাস আগে শ্রীলঙ্কায় এই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল।
এরপরেই বাগদাদে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী ও মুক্তাদার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সিনএনএন ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বাগদাদেও শ্রীলঙ্কার মতো দৃশ্য দেখা গেছে। বাগাদাদে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ঢুকে পড়েন। এরপর তারা সেখানে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটেন ও সেলফি তুলেন।
খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ভবনের সুইমিং পুলে সাঁতার কাঁটার পাশাপাশি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভবনজুড়ে। মাস দুয়েক আগে শ্রীলঙ্কার এই দৃশ্য দেখা গেছে।
প্রেসিডেন্টের বিছানা, সুইমিং পুল, বাগান, জিমে ঘুরে ফিরে আয়েস করতে দেখা গিয়েছিল আন্দোলনকারীদের। বেশ কয়েকদিন সেখানে অবস্থানও করেন তারা। অনেকে রান্না করেও খান প্রেসিডেন্টের বাসভবনে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় দেশটির সেনাবাহিনী। গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশত্যাগের পর আন্দোলনকারীদের প্রাসাদ থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়।
দেশটির এই অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সংস্থাটি উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহব্বান জানিয়েছে।
এছাড়া আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের কারণের যে কারফিউ জারি করা হয়েছে তা নিয়ে দেশজুড়ে সরকারি কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের ইরাক ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।
