#bcs #admin #morningtribune

আমার মায়ের চোখের পানি আমার জীবনের আশীর্বাদ ছিল

নাজিম উর রহমান

গত ৩০ মার্চ ৪০ তম বিসিএসের ফল প্রকাশিত হয়।৪০তম বিসিএসে ১ হাজার ৯৬৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে পিএসসি। যারা ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিভিন্ন বিভাগের ক্যাডার হয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে তা নিয়ে একটি সিরিজ প্রতিবেদন তৈরি করছে মর্নিং ট্রিবিউন। আজ হচ্ছে তার দশম পর্ব।
আজকে আমাদের সাথে আছেন তারেক রহমান। যিনি ৪০তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত (মেধাক্রম: চতুর্থ)। এই প্রতিনিধির সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বসে নিজের অতীত, অধ্যবসায়, সাধনার গল্প তারপর বিসিএস ক্যাডার হওয়ার যে জার্নি আর তার আগামীর কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে বলছিলেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন বিভাগের এর সাবেক শিক্ষার্থী তারেক রহমান। সম্প্রতি ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডার হয়েছেন তিনি।
তারেক রহমানের জন্মস্থান ও বেড়ে উঠা টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলায়। তার পরিবারে আছেন বাবা, মা এক বোন। ব্যক্তিগত জীবনে তারেক রহমান বিবাহিত। তিনি মাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন ধনবাড়ী নওয়াব ইনস্টিটিউশন থেকে আর উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন ধনবাড়ি কলেজ থেকে। তারপর ২০০৮-০৯ সেশনে ভর্তি হন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগে। তিনি তার একাডেমিক ফলাফলে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।
যখন তারেক রহমান বলছিলেন তার জীবনের মূলমন্ত্রের কথা তখন তিনি বলেন,আমার বেড়ে উঠা একটি স্বচ্ছল পরিবারে। আমি ছোটকাল থেকে যা চেয়েছি তাই পেয়েছি। বিভিন্ন কারনে আমি আমার লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে পড়ি। এক পর্যায়ে লেখাপড়া ছেড়ে দেই। একদিন দুপরে ঘুমানোর সময় আমি টের পাই আমার কপালে পানি পড়ছে, তখন আমি উঠে দেখতে পাই মা কান্না করছে, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করি মা তুমি কেন কান্না করছ? তখন তার মা উত্তর দেয়, “তুমি যে ঠিকমত চলাফেরা কর না, মানুষ নানা কথা বলে। আমার তো খারাপ লাগে। তোমার বাবার অসম্মান হয়।” আমার মায়ের সেই চোখের পানি আমার জীবনে আশীর্বাদ হিসাবে ধরা দেয়। আমি তারপর থেকে আমার জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করি। আমার বাবার অবদানও অনেক বেশি আমার জীবনে। বাবা আমাকে ছাড়া কখনও রাতের খাবার খেতেন না। কোন দিন আমার চাওয়া অপূর্ন রাখেননি। তিনি আমার জন্য সবসময় চিন্তা করতেন। তার একটাই চাওয়া ছিল আমি যেন মানুষের মত মানুষ হতে পারি। তার জন্য তিনি কোন ত্রুটি রাখেন নাই।
তিনি তার সাফল্যের পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদানের স্বীকৃতি দেন গ্রুপ স্টাডিকে। সবাই একসাথে পড়াশোনা করলে কঠিন বিষয়টাও সহজ হয়ে যায় মাথায় সেট হয়ে যায়। তিনি একা পড়াশোনা করতে পারতেন না, যার জন্য তিনি বিভাগের পড়াশোনা ও বিসিএসের পড়াশোনার জন্য সবসময় গ্রুপ স্টাডি করতেন। একাডেমিক এবং চাকরির ফলাফলে তিনি তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।
বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, আমি বিসিএস এর পড়া শুরু করেছি ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে। বিসিএস এর মূল পরীক্ষা হচ্ছে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। বইয়ের ক্ষেত্রে একটা সিরিজ ফলো করতে হবে। যার যেই বিষয় স্ট্রং জোন সেই বিষয়ে কোনভাবেই ভুল করা যাবে না। পরীক্ষার হলে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ভোগা যাবে না।
লিখিত পরীক্ষায় কোন বিষয়ে দুর্বলতা থাকলে, যে বিষয়টাতে ভাল দক্ষতা আছে সেটাতে সবচেয়ে ভাল প্রস্ততি নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় স্মার্ট ওয়ার্ক করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় কোন ভাবে অবহেলা করা যাবে না। লিখিত পরীক্ষার খাতা উপস্থাপন করতে হবে সুন্দর ভাবে। অতিরিক্ত চার্ট, ডায়াগ্রাম ব্যবহার করার দরকার নাই। তাতে হিতের বিপরীত হতে পারে। ডাটাতে ভুল তথ্য দেওয়া যাবে না। লিখিত পরীক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বইটা খুব ভাল করে পড়তে হবে। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ভাল করে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
ভাইভা বোর্ড ভাল করা শুধু বেশি জানার উপর নির্ভর করে না। আপনার আচরণের উপরও অনেকটা নির্ভর করে। সমসাময়িক বিষয় ও শুদ্ধ ভাবে ইংরেজি বলাটাও ভাইভা বোর্ডে একটা ফ্যাক্ট। ভাইভাতে আপনার সব কিছু খেয়াল করা হবে। আপনার আচরণ, ড্রেস সেন্স, কথা বলার ধরন। আপনাকে আপনার নিজের যত্ন নিতে হবে। যারা ভাইভা বোর্ডে থাকবেন তারা সবাই অনেক অভিজ্ঞ। আপনি তাদের সামনে কোন অভিনয় করলে তারা তা বুঝতে পারবেন ।
এবার যখন জানতে চাওয়া হয় কর্মক্ষেত্র নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি? তখন বলেন,’’আমি নিজেকে একজন দক্ষ কর্মকর্তা হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য সরকার যেসব পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে তা বাস্তবায়নে আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিতে চাই।‘’

Leave a Comment

Your email address will not be published.