রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাসের ভেতর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর হাত থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি ১২ দিন পর উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
তেজগাঁও থানার ওসি অপূর্ব হাসান বলেছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ফোনটি উদ্ধারের পাশাপাশি দুই ছিনতাইকারীকেও তারা গ্রেপ্তার করেছেন।
কোথা থেকে কীভাবে ফোনটি উদ্ধার করা হল, বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
গত ২১ জুলাই বিকালে বাসের ভেতর নিজের মোবাইল খোয়ালেও পিছু ধাওয়া করে ছিনতাই চক্রের দুই সদস্যকে ধরে সাহসিকতার জন্য প্রশংসিত হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ওই শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার রাতে তিনি বলেন, থানা থেকে তাকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফোনটি উদ্ধার হওয়ার খরব দিয়েছে। বুধবার সকালে ফোন আনতে তিনি থানায় যাবেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, থিসিসের কাজে ২১ জুলাই সকালে সদরঘাট থেকে মিরপুর চিড়িয়াখানায় গিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তার বন্ধু শাহরিয়ার আলম। সারা দিন সেখানে কাজ করে তানজিল পরিবহনের একটি বাসে করে ফিরে যাচ্ছিলেন সদরঘাটে। সন্ধ্যার দিকে বাসটি কারওয়ান বাজার এসে জ্যামে আটকে পড়ে। তখন বাসের জানালার পাশে বসে মোবাইলে বোনের সঙ্গে কথা বলছিলেন ওই ছাত্রী। হঠাৎ এক ছিনতাইকারী বাইরে থেকে মোবাইলটি টান দিয়ে দৌড় দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই বাস থেকে নেমে তিনি ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করেন কিন্তু ধরতে পারেননি। মুঠোফোনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হারিয়ে কারওয়ান বাজারের মূল সড়কের পাশে ইত্তেফাকের গলিতে এসে কাঁদছিলেন। ঠিক তখনই দুই ছিনতাইকারী আরেকজনের ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালাচ্ছিল। পেছন থেকে একজন বলছিলেন, ধরেন ধরেন। চিৎকার শুনে তিনি এক ছিনতাইকারীকে জাপটে ধরেন।
নিজের ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ছিনতাইকারীকে ধরতে না পারলেও আরেক ছিনতাইকারীকে ধরে তিনি কিল-ঘুসি দিতে থাকেন। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে জড়ো হন অনেক মানুষ। ছিনতাইকারীর পকেট তল্লাশি করে একটি মোবাইল ফোন পান। তবে সেটি তার নয়। পরে ওই ছিনতাইকারীকে দিয়ে ফোন করে তার সহযোগীকে ডেকে আনেন। এরপর দুই ছিনতাইকারীকে তেজগাঁও থানা-পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। দুই ছিনতাইকারী ধরিয়ে দেওয়ার পর তেজগাঁও থানায় একটি জিডি করি।
সম্পাদক: ড. রহমান মাসুক অফিস: ১২৯,এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫। ফোন ও ইমেইল (নিউজরুম): ০১৫৫৮১০৪১৬১; morningtribune@yahoo.com
Copyright © 2026 Morning Tribune. All rights reserved.