চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রী হলে রুমে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জের ধরে শাখা ছাত্রলীগের পদধারী দুই জুনিয়র নেত্রীর বিরুদ্ধে সিনিয়র নেত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুইজন অভিযুক্ত দুই ছাত্রীর বিরুদ্ধে হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী হলেন ছাত্রলীগের উপ স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও সংস্কৃত বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী সিমা আরা শিমু এবং উপ ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী সাজামুন নাহার ইষ্টি।
আর অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী তাসফিয়া জাসারাত নোলক ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের উপ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। আরেক অভিযুক্ত নির্জনা ইসলাম নাট্যকলা বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের উপ কৃষি শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক।
জানা যায়, ছাত্রলীগ নেত্রী সাজমুন নাহার ইষ্টি ও তার রুমমেট নির্জনা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হলের ২০৩ রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নির্জনা ও ইস্টি রুমের মধ্যে ছিলেন। এ সময় নোলক তাদের রুমে প্রবেশ করে। নোলকের রুমে নক না করে প্রবেশ করতে বারণ করায় নির্জনা ও নোলক ইষ্টির সঙ্গে তর্কে জড়ায়।
এরপর ইষ্টি নির্জনার মা ও নোলকের বাবাকে এ বিষয় জানালে নোলক আবার রুমে এসে তর্কে জড়ায়। এ সময় পাশের রুমের সীমা শিমু তাদেরকে থামানোর চেষ্টা করলে তাকে চড় মারে। এরপর তারা উভয়ে এক অপরকে চড়, থাপ্পড় মারতে থাকেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগেও অভিযুক্ত তাসফিয়া জাসারাত নোলককে মাদকদ্রব্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশ থেকে রাতে হাতেনাতে ধরেন প্রক্টরিয়াল বডি। পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।
অভিযুক্ত তাসফিয়া জাসারাত নোলক বলেন, আমি কেন তাদের রুমে কথা বলতে যাব? এগুলো মিথ্যা। তারা উল্টো আমার ওপর আক্রমণ করেছে এবং আমার বাবার কাছে যা-তা ফোন করে বলেছে। যার প্রমাণ রয়েছে। আমিও হল প্রাধ্যক্ষকে জানিয়েছি।
ভুক্তভোগী সাজমুন নাহার ইষ্টি বলেন, নোলক হুটহাট আমার রুমে ডুকে পড়ে। এভাবে রুমে না আসতে বলায় নোলক ও তার বান্ধবী ও আমার রুম্মেট নির্জনা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। আমরা হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমাদের দাবি- অভিযুক্ত তাসফিয়া নোলক এবং নির্জনা ইসলাম উভয়কে বহিষ্কার করতে হবে।
দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. সাইদুল ইসলাম সোহেল বলেন, ২০৩ নম্বর রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী ইষ্টি ও নির্জনের মধ্যে সিট নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় নোলক তাদের রুমে যায় এবং তর্কাতর্কি করে। এক পর্যায়ে ইষ্টির সঙ্গে হাতাহাতি হয়। ইষ্টি ও নির্জনার ব্যাপারে আমাদের কাছে পূর্বে কোনো অভিযোগ না থাকলেও নোলকের বিরুদ্ধে প্রক্টর অফিস আগেই অভিযোগ দিয়ে বলেছিল যে, সে আইন না মেনে অনেক রাতে পর্যন্ত বাইরে থাকে এবং এ ব্যাপারে নোলকের বাবাকেও ইনফর্ম করেছে।
তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আমরা একটা হলবুক মেইন্টেইন করি। নোলক রাত করে হলে আসে, আমরা তাকে মৌখিকভাবে এ বিষয়ে আগেও সতর্ক করেছি। আজকের ঘটনায় যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাকে হয়তো হল থেকে বের করে দেওয়া হবে।
এ সময় হল প্রভোস্ট আরও বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আমরা একটা হলবুক মেইনটেইন করি। নোলক রাত করে হলে আসলে, আমরা তাকে মৌখিকভাবে এ বিষয়ে আগে সতর্ক করেছি। আজকের ঘটনায় যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাকে হয়তো হল থেকে বের করে দেয়া হবে।’
চবি প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, ‘ছাত্রীদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা সেখানে যান। এ ঘটনায় অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতা পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।’
সম্পাদক: ড. রহমান মাসুক অফিস: ১২৯,এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫। ফোন ও ইমেইল (নিউজরুম): ০১৫৫৮১০৪১৬১; morningtribune@yahoo.com
Copyright © 2026 Morning Tribune. All rights reserved.