সামরিক মহড়ার ঘোষণা, তাইওয়ানে চীনের ২১ যুদ্ধবিমান

রাজধানী তাইপেইয়ের সোংশান বিমানবন্দরে তখন অবতরণ করতে চলেছে ন্যান্সি পেলোসির বিমান। হঠাৎই চিন সাগরের দ্বীপরাষ্ট্রের পূর্ব সীমান্তে চিনা বিমানবাহিনীর হানাদারির খবর ছড়িয়ে পড়ল!
আমেরিকার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসের স্পিকার এবং সঙ্গীদের সফর শুরুর আগেই তাইওয়ানের আকাশসীমায় অন্তত ২০টিরও বেশি চিনা ফাইটার জেট অনুপ্রবেশ করে বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর।  দেশটির স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে ১০টা ৪৪ মিনিটে পেলোসির উড়োজাহাজ তাইপের মাটি স্পর্শ করে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে আদতে সামরিক অভিযান শুরুর বার্তা দিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
পেলোসির সফরের সময় বেজিং যে তাইওয়ানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে পারে আমেরিকার সামরিক সূত্রে তার আঁচ মিলেছিল। মঙ্গলবার রাতে পেলোসিরা মালয়েশিয়া থেকে তাইপেইয়ের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরেই তাঁদের নিরাপত্তা দিতে জাপানের বিমানঘাঁটি থেকে তাইওয়ানে উড়ে এসেছিল আমেরিকার বিমানবাহিনীর ১৩টি ফাইটার জেটের একটি স্কোয়াড্রন।
পেলোসি এবং আমেরিকার কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান তাইওয়ানের বিদেশমন্ত্রী জোশেফ য়ু-সহ অন্য সরকারি প্রতিনিধিরা। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, বিমানবন্দরের প্রায় অন্ধকার রানওয়েতে টর্চের আলোয় হেঁটে যাচ্ছেন পেলোসিরা। এ বার প্রশ্ন উঠেছে, চিনা বিমান হামলার আশঙ্কাতেই কী বিমানবন্দরের অনেক আলো নিভিয়ে ফেলা হয়েছিল?
অন্যদিকে মার্কিন রণতরি ইউএসএস রোনাল্ড রিগ্যান বর্তমানে ফিলিপাইন সাগরে অবস্থান করছে। একই এলাকায় ইউএসএস ত্রিপোলি নামের আরেকটি উভচর জাহাজ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
ন্যান্সির এই সফর, হোয়াইট হাউস যাতে সরাসরি কোন সমর্থন দেয়নি, গত কয়েক দশকের মধ্যে কোন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার প্রথম তাইওয়ান সফর এটি।
কংগ্রেসের স্পিকার মার্কিন সরকারের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের পরই পেলোসির অবস্থান। তিনি বেইজিং সরকারের দীর্ঘদিনের এক সমালোচক।
চীন বারবার করে এই সফরের বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছে এবং মঙ্গলবার বলেছে, এই সফরের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে “মূল্য দিতে হবে।”
তাইওয়ান একটি স্বশাসিত দ্বীপ, তবে চীন একে নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে। বিবিসি, আল জাজিরা, এনডিটিভি

Leave a Comment

Your email address will not be published.