#pm#uk#indian

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র থেকে ব্রিটেনের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক

২০০ বছর ধরে ভারত শাসন করেছিল ব্রিটেন। ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূতই বসলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে। এর আগে কনজ়ারভেটিভ পার্টির নির্বাচনে লিজ ট্রাসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন ঋষি সুনক। তখন কেউই ভাবতে পারেননি, ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে তিনি আবার ফিরে আসতে পারবেন। কিন্তু, মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই বদলে গেল পুরো চিত্রটা। ৪৫ দিনের রাজ্যপাট গুটিয়ে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছেন লিজ ট্রাস। আর, এদিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হলেন ঋষি সুনক। রবিবার, প্রধানমন্ত্রীর দৌড় থেকে সরে গিয়েছিলেন বরিস জনসন। সোমবার সরে দাঁড়ান তৃতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী পেনি মর্ডান্টও।

যুক্তরাজ্যের ৫৭তম এবং ১৮১২ সালের পর থেকে কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। আধুনিক যুগে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দ্রুততম সময়ে প্রধানমন্ত্রীর পদে পৌঁছানোর রেকর্ডও গড়তে চলেছেন। এজন্য সুনাক সময় নিচ্ছেন মাত্র সাত বছর। রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাওয়া প্রথম ব্যক্তিও ভারতীয় বংশোদ্ভূত এ নেতা। অর্থাৎ, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ পরবর্তী যুগে শপথ নেয়া প্রথম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হবেন ঋষি।

১৯৮০ সালে দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনে ৪২ বছর বয়সী ঋষি সুনাক জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা যশবীর সুনাকের জন্ম কেনিয়ায়। তার মা ঊষা সুনাক জন্মগ্রহণ করেন তৎকালীন তাঙ্গানিকায়, যা বর্তমানে তানজানিয়ার অংশ।

ঋষির দাদা-দাদি ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন ও ১৯৬০-এর দশকে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে পূর্ব আফ্রিকা থেকে যুক্তরাজ্যে চলে আসেন। যশবীর সুনাক যুক্তরাজ্যে একজন জিপি (জেনারেল প্র্যাকটিশনার) হিসেবে ও ঊষা সুনাক ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে ঋষি সুনাকই সবার বড়।

তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় যুক্তরাজ্যের রমসি, হ্যাম্পশায়ারের স্ট্রউড স্কুলে। এরপর উইনচেস্টার কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়ালেখা করেন তিনি। অক্সফোর্ডের লিঙ্কন কলেজে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন ঋষি। ২০০১ সালে তিনি প্রথম স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ফুলব্রাইট স্কলার হিসেবে এমবিএ করেন। ভারতের বিখ্যাত শিল্পপতি ও ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা এন আর নারায়ণ মূর্তির জামাতা ঋষি সুনাক। নারায়ণ মূর্তির মেয়ে অক্ষতার সঙ্গে বিয়ে হয় তার।

প্রথমবারের মতো ইয়র্কশায়ারের রিচমন্ড আসন থেকে ২০১৫ সালে এমপি নির্বাচিত হন ঋষি সুনাক। থেরেসা মে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী হলে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ঋষি।

ব্রিটেনের ধনীদের মধ্যে অন্যতম ঋষি। তার সম্পত্তির পরিমাণ জানলে চোখ কপালে উঠবে! ঋষি ও তার স্ত্রী অক্ষতার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৭৩০ মিলিয়ন পাউন্ড। বাংলাদশের মুদ্রায় যা ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। মধ্য লন্ডনে বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে ঋষির। একাধিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সেই বাড়িতে।

জানা গেছে, সুনাকের বাড়িতে রয়েছে পাঁচটি বেডরুম। এ ছাড়াও রয়েছে চারটি বাথরুম। রয়েছে বিশাল বাগানও। ঋষির এই বিলাসবহুল বাড়ির দামও আকাশছোঁয়া। যে বাড়িটি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা দামে কিনেছিলেন ঋষি-অক্ষতা। বর্তমানে এই বাড়ির দাম ৭০ কোটি টাকারও বেশি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির কাছেই রয়েছে সুনাকের বাড়ি। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে বাড়িটি নবরূপে সাজানো হয়েছিল। শোনা যায়, স্ত্রীর মনের মতো করেই সাজানো হয়েছে বাড়িটি। লন্ডনের ওল্ড ব্রম্পটন রোডে দক্ষিণ কেনসিংটনে আরও একটি বাড়ি রয়েছে ঋষির। বন্ধুদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে এই বাড়িতে যান ঋষি ও অক্ষতা। এ ছাড়াও নর্থ ইয়র্কশায়ারে ঋষির খামারবাড়িও রয়েছে। এই বাড়িটিও অত্যন্ত বিলাসবহুল।

সূত্র: আল-জাজিরা ও বিবিসি।

Leave a Comment

Your email address will not be published.