বিসিএস ভাইভা

বিসিএস ভাইভা ক্যাডারের নির্ধারক!

নাজিম উর রহমানঃ

বিসিএস ভাইভা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।  সুদীপ্ত বিশ্বাস, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। যিনি  সম্প্রতি ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কাস্টমস এন্ড এক্সাইজ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। সুদীপ্ত বিশ্বাসের  চয়েজ লিস্টের প্রথম পছন্দ ছিল বিসিএস কাস্টমস এন্ড এক্সাইজ এবং প্রথম বিসিএস এ নিজের প্রথম পছন্দ পেয়েছেন তিনি। সুদীপ্ত বিশ্বাস  তার ভাইভা বোর্ডের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকে  বিসিএস পরীক্ষার্থীদের  সর্বদা দিকনির্দেশনা মূলক সাজেশন দিয়ে থাকেন। যার কারণে তিনি তার  সাজেশনের জন্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যে  তুমুল জনপ্রিয়। মর্নিং ট্রিবিউনে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘সুদীপ্ত বিশ্বাসের’ দিক নির্দেশনা নিয়ে বিসিএস  ভাইভা গাইডলাইন।

বিসিএস ভাইভাতে কি ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে?

৪১তম এবং ৪৩তম বিসিএস ভাইভাকে মাথায় রেখে কিছু কথা। ভাইভাতে ভালো করার অনেক টেকনিক আছে, যেগুলির একটাও কাজ করে না। আপনি প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এটা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিবেন।

আরও পড়ুন

১। ভাইভাতে ইংরেজি প্রশ্নের উত্তর ইংরেজিতে এবং বাংলা প্রশ্নের উত্তর বাংলায় দিবেন। বিসিএস ক্যাডারে চাকরি পেতে ইংরেজিতে কথা বলার অসাধারণ দক্ষতা থাকতে হয়, এমনটা নয়। সাহসের সাথে উত্তর বুঝিয়ে দেওয়াটা আর্ট।

২। আপনার চয়েজ, আপনার সাবজেক্ট, আপনার জেলা, বিশ্ববিদ্যালয়, সাম্প্রতিক বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ, আপনি কেন সিভিল সার্ভিসে আসতে চাইছেন এগুলো নিয়ে জানুন। নিয়মিত পত্রিকা পড়ুন। ছোট ছোট সংবাদ নোট করে রাখা ভালো। ‘English News’ দেখুন। বিটিভিতে চোখ রাখুন।

৩। “Introduce yourself ” খুব ভালো ভাবে প্রস্তুতি রাখবেন।

৪। ভাইভা বোর্ডে প্রবেশের সময় আপনার ইম্প্রেশন যেমন হবে, আপনার ভাইভার প্রশ্ন সেই অনুযায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৫। তর্কে জড়াবেন না।

৬। উত্তর জানা না থাকলে বিনীতভাবে বলুন।

৭। নেতিবাচক প্রশ্নের উত্তর ইতিবাচকভাবে তুলে ধরুন।

৮। আই কনট্যাক্ট ঠিক রাখুন।

৯। আপনার প্রথম পছন্দের সাথে আপনার পঠিত বিষয়ের একটা সাদৃশ্য জেনে প্রস্তুতি রাখবেন।

১০। আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলবেন।

১১। আপনি অনেক জানেন এই ভাবটা প্রকাশ করবেন না।

১২। আপনার অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট আপনার ভাইভাতে কোনও প্রভাব ফেলবে না। তবে বেশি খারাপ হলে, যথাযথ উত্তর প্রস্তুত রাখুন।

১৩। আপনি যে প্রতিষ্ঠান থেকেই পড়াশোনা করেন না কেন, ভাইভাতে আপনি কি সেটাই দেখা হবে।

১৪। আপনার পোশাক অফিসারসুলভ হতে হবে। ধর্মীয় পোশাকে বাধা নেই।

১৫। আপনার প্রিয় শখ যা-ই বলুন না কেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখবেন। এই প্রশ্নটা অনেকে করেন, উত্তরটা এখানে দিচ্ছি।

প্রশ্নঃ ভাইয়া, ভাইভার জন্য কি কি বই পড়বো?

উত্তরঃ ভাইভার জন্য আসলেই কোনো বই নেই! কি করবেন তাহলে!

  • ১। আলোচনা করবেন, যারা ভাইভা দিবে এমন কয়েকজনের সাথে।
  • যে বই থেকে পড়ছেন, সেটাকে বেদ বাক্য মনে করবেন না! অনেক ভুল থাকে!
  • যারা সফল তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করবেন।
  • ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা বৃদ্ধি করবেন। কারো সাথে কথা বলার মাধ্যমে অথবা আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজে নিজে চর্চা করতে পারেন। ফোনে রেকর্ড করে শুনতে পারেন।
  • ভাইভার জন্য পড়ার থেকে প্রশ্নের উত্তরের পদ্ধতি বেশি রপ্ত করার চেষ্টা করবেন।
  • অনেক জানেন, অনেক পড়েছেন, আলোচনা করছেন না। আপনার ভাইভা ভালো না হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে।
  • কিছু কিছু মানুষের জানার পরিধি দেখলে নিজেকে গাধা মনে হবে! তবে তারা ক্যাডার হবে এমনটা নয়। প্রেজেন্টেশন বড় ফ্যাক্ট।
  • অনলাইন পেজে যেসকল ভাইভা অভিজ্ঞতা ঘুরাঘুরি করে, অন্ধের মতো বিশ্বাস করবেন না!
  • ভাইভার বাস্তবিক অভিজ্ঞতা শুনতে হলে, যারা ভাইভাতে সফল হয়েছে, এদের গল্পগুলো তাদের সাথে কথা বলে শুনুন, অনলাইন পেজ থেকে নয়! ভাইভা একটা ভাগ্যের খেলা! শুভকামনা।

ফলো করুন

বি.দ্রঃ আপনার ভাইভা মার্কসই নির্ধারণ করে দিবে, আপনি পছন্দের ক্যাডারটিতে পৌঁছাতে পারবেন কিনা। তাই, প্রস্তুতিতে ত্রুটি রাখবেন না। সিভিল সার্ভিস আপনার অপেক্ষায়!

সুদীপ্ত বিশ্বাস,

কাস্টমস এন্ড এক্সাইজ ক্যাডার

৪০তম বিসিএস

Leave a Comment

Your email address will not be published.