#morningtribune#health

“তোমরাতো গরীব মানুষ, বড়ি খেতে মনে থাকে না”

শাহরিয়ার জামান শাওন।।

“গরিব এবং ২ সন্তানের মা” এই দুইটি পরিচয়ই যেন ঠিক করে দিয়েছিলো সরকারী ও বেসরকারি বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচীর টার্গেট হওয়ার জন্য। সেই দুই পরিচয়ে দোষী হওয়ার জন্য বীরপ্রতীক তারামন বিবিও রক্ষা পান নি এই আগ্রাসন থেকে। “আমাকে যেন ২ টা ইনজেকশন দেয়। আমি যেন টের না পাই। কিন্তু আমারে হাসপাতালে ভর্তি করালো তারপর অপারেশন করালো।

আমি তখন হয়রান।ডাক্তারনী কইলো আপনি অস্থির হইছেন।আপনারে কার্ড দিবে,টিন দিব,আপনার স্বাস্থ্য ভালো করে দিবো” বলছিলেন তারামন বিবি তার বন্ধ্যাকরণ অপারেশনের ১০ বছর পরে যখনও তিনি নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন সেই প্রলোভন এর অপারেশন করিয়ে। ৮০ এর দশকে জন্মনিয়ন্ত্রণের যে ধার করা পলিসি বাংলাদেশে গ্রহণ করা হয়,তার সূদুরপ্রসারী ফল ছিলো ভয়াবহ। পরিবার পরিকল্পনা কর্মী তাদের টার্গেট ধরতে মরিয়া ছিলেন যেটা দরিদ্র পীড়িত এলাকার জন্য রীতিমতো এক আতংকের নাম ছিলো। সামান্য ১৭৫ টাকা ও একটা শাড়ির জন্য এসব গরীবলোকেরাও পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের মন ভোলানো কথায় অপারেশন করিয়েছে যার মাশুল তাদেরকে দশকের পর দশক দিতে হয়েছে অনুন্নত স্বাস্থ্যসেবার জন্য। কপার টি, রুবি ইনজেকশন, ডেপো প্রবেরা ইনজেকশনের অপরিকল্পিত এবং অস্বাস্থ্যকর উপায়ে ব্যবহার অনেকের জীবন দূঃর্বিসহ করে তুলেছিলো। পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের টার্গেট পূরণের মানে যে ভয়ংকর খেলা শুরু হয়েছিলো তার ব্যপকতা বোঝা যাবে মোহাম্মদপুর ক্লিনিকের এক আয়ার ৯০ এর দশকের বয়ান থেকে–” আপা শুনলে কুদাল দিয়ে কুপাইবো।বুঝ না তোমরাতো গরীব মানুষ, বড়ি খেতে মনে থাকে না।তাই সুই লইয়া যাও। এসএমসি এর  ব্লু ষ্টার প্রোগ্র্যাম এর মতো কর্মসূচীও বন্ধ্যাকরণে সাফল্য পেয়েছিলো হাজারো গরীব মহিলার স্বাস্থ্যের বিনিময়ে। এজন্য জনসংখ্যা বিশ্লেষকেরা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণকে বর্ণবাদী এবং গরীব বিরোধী বলে সমালোচনা করেছেন

Leave a Comment

Your email address will not be published.