আন্দোলন বিতর্কিত না করতে শখের জিনিসের বলি দিচ্ছেন ঢাবি ছাত্র মহিউদ্দিন রনি

রেলের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কমলাপুর রেল স্টেশনে নয় দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি। রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং সহজ ডট কমের যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদে ৬ দফা দাবিতে কমলাপুর রেলস্টেশনে টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি ও তার দাবির পক্ষের সমর্থনকারীরা। শুরুতে তিনি অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করলেও প্রশাসনের বাধার মুখে সেটি সম্ভব হয়নি।  গত বৃহস্পতিবার তার লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
চলমান আন্দোলনের খরচ চালাতে কারও সহায়তা নয়, প্রয়োজনে বিক্রি করতে চান শখের জিনিস। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি তার এক পোস্টে এ কথা জানান।
তিনি জানান,”বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা পরিবর্তনে ৬ দফা দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে আসা  শিক্ষার্থীদের খাবার, অবস্থানের আনুষাঙ্গিক খরচ, এবং সহজ.কমের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পরিচালনা করার জন্য অর্থের হিমশিম খাচ্ছিলাম। তবে সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে সেই সমস্যার সমাধানও মোটামুটি করা শুরু করেছি। সোশ্যাল মিডিয়াতে অর্থ যোগানের জন্য ক্যামেরা, ফোন বিক্রির পোস্ট দেওয়ার পর আজ ক্যামেরাটা বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছি। যদিও তা যৎসামান্য। আরো অনেক টাকার প্রয়োজন। আমার উকুলেলে, আমার কাহন, গিটার আর একটা ডেক্সটপ আছে। সবগুলোই বেশ ভালো। কেউ কিনতে চাইলে তাকে যোগাযোগ করতে বলবেন।
অনেকেই টাকা পাঠাতে চেয়েছেন। তাদের প্রতি আমি আমৃত্যু কৃতজ্ঞ। কিন্ত আমি আমার আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে চাচ্ছি না। তাই আপনাদেরকে টাকা পাঠাতে নিরুৎসাহিত করেছি। যদি একেবারেই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় আমি সবাইকে জানাবো। আশা রাখি তখনও আপনারাই সবার আগে এগিয়ে আসবেন।
শিক্ষার্থী বন্ধুরা নিশ্চিন্তে আসুন অর্থের কারণে আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন থেমে থাকবে না। জয় আমাদের সুনিশ্চিত। আলো আসবেই ইনশাআল্লাহ।”

রেলের টিকিট কাটতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি। এরপর থেকে তাঁর জেদ চাপে, অন্তত প্রতিবাদ তো করা যায়। রেলওয়ের নানা অব্যবস্থাপনায় আর কেউ যেন এমন হয়রানির শিকার না হন। যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে- গাইতে গাইতে একাই প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। হুমকি পাচ্ছেন গ্রেপ্তারের, পুলিশও দিয়েছে গলাধাক্কা। তবুও এই রনি টানা ১০ দিন ধরে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে চলেছেন। এই শিক্ষার্থী বলছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর অহিংস আন্দোলন চলবে।

রনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। গত জুন মাসে রেলের টিকিট কিনতে গিয়ে পদে পদে হয়রানির শিকার হন তিনি। এরপর ৭ জুলাই থেকে ছয়টি দাবিতে কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে অবস্থান শুরু করেন। ঈদের দিনেও তিনি ছিলেন অবস্থান কর্মসূচিতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.